আবুল খায়ের
কালী ঘাট প্রসঙ্গ। ভাগীরথী নদী। প্রাচীনতম সমাজে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মান কেমন ছিলো!! ধারনা করা যাক যে ৫০০-৬০০ বছর আগেকার বেঙ্গল অঞ্চলের জীবনযাপন কি রকম হতে পারে। তখনকার সমাজে যে দৈন্যতা ছিলো তা সত্য। দৈন্যতাকে আমরা এখনও অপ্রতিরোধ্য মনে করি। তবে মনে হবে যেন খোদার রাজ্যে একবার যদি গমন করা যায় তবে সেখান থেকে ফিরে এই নরাধম ও দৈন্যতায় ভরা পৃথিবীতে আসার কোনই প্রয়োজন হয় না।
হ্যাঁ তবে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস থাকতো এবং যদি সেটা মানুষের পরকালের জীবন এবং খোদার রাজ্য সম্বন্ধে সাধারন মানুষের মনে উদ্দীপনা যোগায় তাহলেই গৃহত্যাগের এমনতর অদ্ভত ইচ্ছা ব্যাক্তির মনে আসবে ঠিক কিন্তু সমাজের মধ্যে তা একদম প্রতিফলিত হবে না।কারন আমরা জানি যে সকল সমাজই রক্ষনশীন হয়ে থাকে, যেখানে পরিবর্তনকে শান্তি বিঘ্নকারী বলে মনে করা হয় তাই প্রকাশ্য বিরোধীতা হবেই।--"জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো"..। তবে জোর করে এবং ধরে-বেঁধে কাউকে এই দরিদ্রতম পৃথিবীর অংশে ডিপোর্ট করে দিলে সেটা আলাদা হিসাব।সেটা বিদেশীদের পরীযায়ী মানষিকতা পরিগনিত হবে বা হয়তো হবে এই কোন না কোন ভালোবাসার হিসাব। একসময় শোনা যেত যে কামরূপ কামাক্ষায় একবার গেলে নাকি আর ফিরে আসা যেত না।মানষের এভাবে অন্তর্হিত হবার কি সেই কারন সেটা কিন্তু কেহই জানে না। আমার উদ্দেশ্য মানুষের ধর্ম পরিমার্যনা নয়। ধর্মের সঙ্গে অর্থনীতির কি সংযোগ তার উপরেই কিছুটা আলোকপাত।
মানব জাতী যদি সত্যিই ''লিমিটেড কোম্পানি'' হয় অর্থাৎ সমাজ যেখানে রক্ষনশীল তাই জেলখানার মধ্যেও তারা দিব্যি সুখশান্তিতে বসবাস করার সামর্থ্য রেখে থাকে বলে যদি মানি কেন তবে অতীতের বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন গুলি হঠাৎ করে ছিঁড়ে যাওয়া মুক্তোর মালার মত ঘটতে থাকে একের পর এক-- যদি শান্তির আকাঙ্গ্খাই মানব সমাজের একমাত্র প্রত্যাশিত হবে তাহলে এমনটা কেন হচ্ছে !!--''ওঁম শান্তি"-- আমরা বিশ্বাস করি যে ধর্মের প্রত্যেকটা শিক্ষাই আসলে সমাজের সর্বস্তরে স্থিতিশিলতারই শিক্ষা দেয়।
অতীত যুগের মানুষের মধ্যে পরহীতকর কাজ বেশ গুরুত্ব পেত কিংবা পুরোহীত শ্রেনীর ভীষন প্রভাব এবং কদর ছিল--বা দুটোই হয়তো সত্য। এবং অসততার মধ্যে বসবাসের বাধ্যবাধকতা তখন যেটুকু ছিলো সেখানে থেকে দারিদ্রতার পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোন পরিস্থিতিকেই তারা সহজ ভাবে মেনে নিত না।তারা গল্পের চেয়েও অর্থনীতির পরির্তনের ধারনাকে বেশী ওয়েলকাম করতো। এ ধারাবাহিকতা আজও আছে।তবে এভাবে পরিবর্তনের কারনেই কিনা এর মধ্যে দূর্নীতির নানান রং ঢুকে গেছে-- আর বর্তমান যুগেই এসব অধিকতর বেশী।মনস্তাত্বিক অনেককিছুরই প্রাধান্য এভাবে বাড়ে।
তবে ধীরে ধীরে দার্শনীক চিন্তায় পরিবর্তনের সূচনা এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়।এর মধ্যদিয়ে গ্রীকদের অনুকরনে যেসব পরিবর্তনগুলি ঘটে চলছিলো অন্তরালে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবিকই সংঘাতপূর্ন পরিবর্তন হয়েছিলো সেটা ঘটেছে বুদ্ধিজীবি সমাজে, সেটা ধর্মীয় সংঘাতের কারনেই ঘটেছে বলে ধারন করা যায়। অর্থনীতির অনুপস্থিতিতে ধর্মের মিঠা বাক্যও ''মাকাল ফল'' বলে মনে হতে পারে,যদিও সর্বক্ষেত্রে এটা সত্য নয়। হলেও কিন্তু তবুও সেই পরিবর্তনের ব্যাপকতা অনেক বেশী ছিলো এবং পরিবর্ধিত একটি সমাজের ধারনা দেয়া ছাড়াও এই পরিবর্তনটি অধিকন্তু যখন ভাষা শীল্প ও সাহিত্যে অভাবনীয় ভাবে আধুনিকতার সংজোযন করেছে। অর্থাৎ অতীত যুগে স্বল্প জ্ঞান ও স্বল্প শিক্ষিত হওয়া সত্বেও মানুষ কিন্তু বর্তমানের চেয়েও বেশী সুখী ছিলো। অর্থনীতি বাদ দিলেও তাদের কিন্তু ছিলো প্রগতীর নিজস্ব ধারনা।
কিন্তু তবুও যেকোন সমাজই অর্থনৈতীক ভাবে উন্নয়নের ধারনার বাইরের অন্যকিছুকে রেডীলি গ্রহন করতে পারে না অর্থাৎ অর্থবোধনের থেকে আলাদা যে কোন পরিবর্তনকে শুধুমাত্র এর বিশুদ্ধতার উপরে গ্রহন করবে না। এবং ঐরকম সেকেলে ধারনার বশবর্তী হয়ে কোন পরিবর্তন শতভাগই পরলৌকিক বিশ্বাসের ফলে ঘটেছিলো বলে এমনটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।আসলে যা ঘটেছিলো তা হল এখনকার যুগের মত ভয়ানক কনফিউশান সেই যুগে ছিলোনা বললেই চলে।তাই তখন মানুষ অধিকতর সুখী ছিলো বলে ধারনা করা যায়। তখনকার মানুষ তুলনামূলকভাবে আত্মাভীমানি এবং কর্মতৎপর ছিলো বলে প্রতীয়মান। ধর্মপ্রচারের আসল উদ্দেশ্য সেটাই ছিল-- যেন একটি বৃহত্তর সমাজের ধারনাকে চাক্ষুশ করা হয়।
এযুগে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ অনেক মানুষকে স্বাচ্ছন্দ দিলেও কিন্তু কেড়ে নিয়েছে মনের সুখ ও শান্তি। যে অর্থনৈতীক মুক্তির স্বপ্নগুলি অতীত যুগের মানুষের প্রত্যহিক জীবনে প্রত্যাশার জন্ম দিতো সেসব আজ বিজ্ঞানের থমকে যাওয়া অগ্রযাত্রায় অনগ্রসর সাধারন মানুষের অন্তরে একধরনের ভয় ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। পারলৌকিক জীবনের মুক্তির ছন্দকে এভাবে নিজ নিজ পার্থীব জীবনে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপাদান ভেবে নিতে তুলনামূলক ভাবে স্বচ্ছল মানুষের মনেও অপরিসীম নৈরাশ্য তৈরী করবে এটা ঠিক। কেননা অর্থনৈতীক উন্নয়নের অন্যতম ধারনাগুলো আগের মত এখন আর এন্টারপ্রেনিউরাল স্তরে নাই; এসব এখন অনেকটাই পরাবাস্তব হয়ে গেছে।এখনকার নবপ্রজন্ম অর্জুনের মীথ থেকেও এলিয়েন ধারনার সাথে নিজেদের ব্যাক্তিগত ভাবনাকে পুরাতন সময়ের চেয়েও বেশী সম্পৃক্ত করতে শিখছে।
প্রশ্ন হল কোন ধর্ম অধিকতর প্রাচীন, হিন্দু ধর্ম নাকি বৌদ্ধ ধর্ম?
সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। এই যুদ্ধ ছিল নৃশংস এবং এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছিল। যুদ্ধের পর অশোকের মনে অনুশোচনা দেখা দেয় এবং তিনি বৌদ্ধ ধর্মের শান্তির পথে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
কলিঙ্গ যুদ্ধ ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট অশোক এবং কলিঙ্গ রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধের পর, অশোক বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং বৌদ্ধ ধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক হয়েছিলেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা প্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থানে দূত প্রেরণ করেন।
অশোকের ত্রয়োদশ শিলালিপিতে কলিঙ্গ যুদ্ধের বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং তাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ও কষ্টের কথা উল্লেখ আছে। এই যুদ্ধের কারণেই সম্ভবত অশোকের মনে অনুশোচনা তৈরি হয়েছিল এবং তিনি বৌদ্ধ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
অজন্তা গুহার মূর্তিগুলি নিসন্দেহে হিন্দু ধর্মের প্রাচীনত্বের নিদর্শন।
অজন্তা গুহার মূর্তিগুলি মূলত খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে খ্রিষ্টীয় ৭ম শতকের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে, দুটি প্রধান পর্যায়ে এই গুহাগুলির নির্মাণ কাজ চলেছিল। প্রথম পর্যায়ে (খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে ১ম শতক) হীনযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল, এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে (৪র্থ থেকে ৭ম শতক) মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব দেখা যায়।
এখানে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে ১ম শতক: এই সময়ে নির্মিত গুহাগুলিতে (যেমন, গুহা ৯, ১০, ১২, এবং ১৩) বুদ্ধের মূর্তির পরিবর্তে স্তূপ, ধর্মচক্র, বা পদ্মফুলের মতো প্রতীক ব্যবহার করা হত। কারণ এই সময়ে হীনযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল, যেখানে বুদ্ধকে একজন মানুষ হিসেবেই দেখা হত, মূর্ত প্রতীক হিসেবে নয়। বুদ্ধকে একজন মানুষ হিসেবেই দেখা হত যে সময় হিন্দু ধর্ম বা আদী সনাতন ধর্ম যে এই নব ধর্মমত থেকেও প্রাচীন হবে সেটা নিশ্চিত।
খ্রিস্টীয় ৪র্থ থেকে ৭ম শতক: এই সময়ের মধ্যে নির্মিত গুহাগুলিতে (যেমন, গুহা ১, ২, ১৬, এবং ১৭) মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব দেখা যায়। এই সময়কালে বুদ্ধের মূর্তি তৈরি করা শুরু হয় এবং গুহাগুলির দেয়ালে বিভিন্ন দেবদেবী ও বৌদ্ধ কাহিনী অবলম্বনে চিত্রকর্ম করা হয়। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মগুলির মধ্যে রয়েছে বোধিসত্ত্ব পদ্মপাণি ও অবলোকিতেশ্বরের চিত্র।
অজন্তা গুহাগুলি মূলত মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার একটি গভীর গিরিখাতে অবস্থিত। এগুলি পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩০টি গুহা রয়েছে।
অজন্তা গুহাগুলির দেয়ালে চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য এবং স্থাপত্যরীতি ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির এক মূল্যবান নিদর্শন।
তাম্রলিপ্ত ইতিহাস কি বৌদ্ধ ধর্মের চেয়েও হিন্দু ধর্মের প্রাচিনত্ব নির্দেশ করছে?
তাম্রলিপ্তের ইতিহাস চতুর্থ/তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে অষ্টম খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ে তাম্রলিপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল।
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে তাম্রলিপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। এটি একটি সমৃদ্ধিশালী বন্দর ছিল এবং জল ও স্থলপথে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে এর যোগাযোগ ছিল। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত তাম্রলিপ্তের বিকাশ ঘটেছিল। চীনের পর্যটক ফা-হিয়েন ৫ম শতকে এখানে এসেছিলেন এবং তার লেখায় এই অঞ্চলের বিবরণ পাওয়া যায়।
যদিও তাম্রলিপ্তির উদ্ভব তাম্র-প্রস্তুর যুগে হয়েছিল কি না সে সম্পর্কিত সমস্যা সম্যকভাবে নিরসন করা যায় নি, তথাপি কালো ও লোহিত মৃন্ময় পাত্র এবং তার সাথে বড়শির মতো অসংখ্য হাড়ের তৈরি দ্রব্যাদির প্রাপ্তি বিষয়টিকে সংশয়িত করে তুলেছে।চার স্তরের সাংস্কৃতিক পর্যায় পরিলক্ষিত হয়।এগুলির মধ্যে প্রথম পর্বে নব্যপ্রস্তর যুগীয় সংস্কৃতির অসম্পূর্ণভাবে পোড়ানো মৃৎপাত্র , বিপুল পরিমাণ মধ্যপ্রস্তর যুগীয় হাতিয়ার, হাড় দিয়ে প্রস্তুতকৃত সূঁচ বিশেষ এবং অল্প কিছুসংখ্যক তাম্রসামগ্রী পাওয়া গেছে। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয়-দ্বিতীয় শতাব্দী হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বের কালসীমা।
ঐতিহাসিকদের মতে, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) জেলার তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল। বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত। প্রাচীন জৈন উপাঙ্গ গুলোতে তাম্রলিপ্তকে বঙ্গ রাজ্যের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব আবিস্কার আসলে হিন্দু ধর্মকেই এতদঅঞ্চলের প্রাচীনতম ধর্ম বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন আর্য সেমেটিক হিন্দু ধর্ম থেকে।
যে সময়ে হীনযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল, তখন বুদ্ধকে একজন মানুষ হিসেবেই দেখা হত, মূর্ত প্রতীক হিসেবে নয়। বুদ্ধকে একজন মানুষ হিসেবেই দেখা হত যে সময়টাতে তখন তো হিন্দু ধর্ম বা আদী সনাতন ধর্ম যে এই নব ধর্মমত থেকেও প্রাচীন হবে সেটা নিশ্চিত। প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনের অভাব থাকলেও ঐতিহাসিক পরিবর্তন গুলির সূক্ষ্ণ পর্যালোচনা করলে এটাই সত্য বলে মনে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সম্রাট অশোক এ অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার করেছেন। কথিত আছে কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। এই যুদ্ধ ছিল নৃশংস এবং এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছিল। যুদ্ধের পর অশোকের মনে অনুশোচনা দেখা দেয় এবং তাই তিনি বৌদ্ধ ধর্মের শান্তির পথে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সনাতন ধর্মের গতিপথ বদলে যে ধর্মটি হিন্দু পুরানের হিন্দু ধর্ম নামে ভারতের প্রধান ধর্ম ছিলো কালের প্রভাবে এবং ঐতিহাসীক হিসাব মতে সেখান থেকেই বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি।
প্রাচীন ভারতে তাম্রলিপ্তের গুরুত্বঃ
তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, সিংহলি গ্রন্থ এবং গ্রীক ভৌগোলিক ও চৈনিক তীর্থযাত্রীদের বিবরণে উল্লিখিত বাংলার একটি প্রাচীন মানব বসতিস্থল। এ সকল গ্রন্থ ও বিবরণ থেকে জানা যায় যে, পূর্ব উপকূলবর্তী তাম্রলিপ্তি গঙ্গা নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে তার কাছে অবস্থিত ছিল। বিবরণসমূহে আরও উল্লেখ পাওয়া যায় যে, তাম্রলিপ্তি তৎকালীন বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এখানে ব্যবসায়ী, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সকল লিখিত উৎসের ভিত্তিতে তাম্রলিপ্তিতে মানববসতির কালসীমা মোটামুটিভাবে চতুর্থ/তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে অষ্টম খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বলে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন বন্দর হিসেবে তাম্রলিপ্তির সর্বশেষ প্রমাণ বহন করছে অষ্টম শতাব্দীর উদয়মনের দুধপানি প্রস্তরলিপি। গ্রীক ভৌগোলিক টলেমির মানচিত্রে ‘তমলিটিস্’ রূপে তাম্রলিপ্তির উল্লেখ রয়েছে। চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসকল লিখিত উৎসগুলির ভিত্তিতে পণ্ডিতগণ তাম্রলিপ্তিকে আদি ঐতিহাসিক ভারতের ব্যবসায়-বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করেন। উৎসগুলি সূত্রে আরও বিশ্বাস করা হয় যে, তৎকালে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরকেন্দ্র হিসেবেও তাম্রলিপ্তির উত্থান ঘটে এবং এর সাথে জল ও স্থলপথে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলের সংযোগ ছিল।
মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা গ্রন্থের বর্ননায় ভারতের সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত-- তপ্রবনী (তাম্রপর্ণী)-- একটি নদী দ্বারা বিভক্ত অধিবাসীগনের নাম Palaegonos পালিসীমান্ত বা পালিগন। এই দেশে ভারতবর্ষ অপেক্ষা অধিক স্বর্ণ ও মুক্তা পাওয়া যায়।
এসব তথ্য প্রমানাদি থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা কঠিন নয় যে আদি সনাতন ধর্ম তথা হিন্দু ধর্মই হচ্ছে এই অঞ্চলের প্রাচীন ধর্ম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন